মস্ত বড় কবি
আমি এখন মস্ত
বড় কবি।
কবি হিসাবে আমার
নাম, খ্যাতি দেশজুড়ে, বিশ্বজুড়ে
কবিতার বই বের
হয় দেশ থেকে, বিদেশ থেকে;
আমার কবিতার উপর
দেশ-বিদেশে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম,
বিভিন বিশ্ববিদ্যালয়ে
পাঠদান; বিভিন্ন জায়গায় আমন্ত্রিত হয়,
সম্মাননা পায়,
প্রশংশিতও হয়।
এখন আমি সত্যিই
এখনজন বড় মাপের কবি।
আমার অহংকার আছে,
গর্ব আছে;
পুরাতন যুগের
কবিদের সমালোচনা করতে পারি।
আলোচকরা আমার
গল্প-কাব্যহীন কবিতায় উদ্ভট ভাষা-অলংকার ব্যাবহারে
‘নতুন এক কাব্যিকধারা’
সৃষ্টির গন্ধ পায়;
তাদের আলোচনায়
আমাকে চিহ্নিত করতে চায়
উত্তরাধুনিক যুগের
বাংলা কাব্যের একজন পাইওনিয়ার হিসেবে।
তারা আমার গল্প-কাব্যহীন
কবিতায় অভিনব কাব্যশৈলি খুজে পায়,
আমার কাব্যিক
অক্ষমতা বাহক গল্পহীন কবিতাকে
এযুগের ন্যায়-নীতিজ্ঞান
বহির্ভূত মাসুষ, মুল্যবোধ বিসার্জিত সমাজের
অনিন্দনুন্দর
প্রকাশ বলে আমাকে প্রশংসা করে।
কখনো কখনো আমি
পায়ের নিচে তাকিয়ে দেখি
আমি মাটিতে বসে
আছি, নাকি আকাশে ভাসছি।
ভাবি, আমার কবিতা
সম্পর্কে আলোচকরা যা বলে
তাকি সত্য? আমি
কি তাহলে সত্যই কবি?
মনে করতে প্রাণান্ত
চেষ্টা করি-
আমি কি কবিতা
লেখার সময় এ সব কথা ভেবেছিলাম?
থাক সে সব কথা।
আমি এখন কবি।
কিন্ত, কি আশ্চর্য
বিষয় দেখুন! এই আমিই একদিন –
(হ্যা, আমিই,
হলফ করে বলছি)
কবিতা বুজতাম
না। কবিতা পড়ার আগ্রহ ছিল তীব্র।
বার বার ছুটে
যেতাম কবিতার কাছে,
কিন্ত কেন যেন
কবিতা আমায় গ্রহন করতো না।
কবিদের উদ্ভট,
যুক্তিহীন আবেগের প্রকাশ, উদ্ভট প্রকাশভঙ্গি
আমাকে পাঠক হিসেবে
ব্যার্থ করেছে।
অবশ্য শেকসপিয়ার,
মিল্টন, বায়রন, শেলি, ওয়ার্ডসওযার্থ, কিটস্, ব্রাওনিং,
রবিন্দ্রনাথ,
নজরুল, জীবনান্দ, শামসুর রহমান, গুনদের কবিতা বুজতে পারতাম সহজেই।
স্বপ্ন দেখতাম
যদি এদের মতো কবি হতে পারতাম-
আর আজ সেই আমি
আমার স্বপ্নের কবিদের চেয়েও বড় কবি।
O’ muse, ask
me to stop being a poet.
Or ask them
to stop being critics.
0 comments:
Post a Comment