আমার কবিতায় কাব্য নেই
আমার কবিতায় কাব্য
নেই,
ছন্দ নেই, জ্ঞানের
কথা নেই।
আছে উদ্ভট ভাষা-অলংকারের
ব্যাবহার,
আছে মগজ থেকে
অনেক দুরে,
নিচে অন্ধকারে
সদ্য প্রসূত ভাবনার প্রকাশের প্রয়াস।
তাইতো আলো থেকে
অনেক দুরে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়;
অন্ধকারের বুক
চিরে দেখতে চাই মানুষের ভবিষ্যৎ,
মানুষের প্রকৃত
রুপ।
ঘন পিতকালো অন্ধকারে
চক চক করে ওঠে
মানুষের প্রকৃত
খোলস,
যারা রাজপথে দর্জি
অভিমুন্য বিশ্বজিত, বা
পুকুরপাড়ে বসে
থাকা ক্লান্ত মিলনকে
অন্ধকার থেকে
বের হয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে
হাজার হাজার মানুষের
মতো মানুষের সামনে
হিংস্র নেকড়ে,
হায়ানার মতো ছিড়ে ছিড়ে খায়।
আমার কবিতায় নেই
আজ থেকে হাজার বছর পূর্বে
বাংলার কোন নবাব
বুড়িগঙ্গার জলে স্নান করেছিল-তার গল্প;
আছে বুড়িগঙ্গার
দূষিত, বিষাক্ত পানির গল্প; আছে দোলযাত্রায়
পুরান ঢাকার উচ্ছিৃঙ্খল
তরুণ-তরুণীদের রংযের হোলি খেলা,
যারা অসহায় দুর্বল
কৃষ্ণকে রংয়ের সাথে ফু দিয়ে আকাশে উড়িয়ে
নিচে ধরতে চায়,
রং মাখাতে চায় কৃষ্ণকন্যার নরম শরীরে।
আমার কবিতার ভাষা
মার্জিত নয়, রুচিশীল নয়।
আছে অশ্লীল শব্দের
ব্যাবহার, আছে রিক্সাওয়ালাকে
কোট-প্যান্টস-টাই
পরা শিক্ষিত ভদ্রলোকের গালাগাল:
"শুযারের
বাচ্ছা, ইতর. দশ টাকা বেশি ভাড়া চাস” ।
আছে ট্রাক ড্রাইভারকে
ট্রাক ড্রাইভারের গালাগাল:
"মাঙয়ের
পুত, চুদানির পোলা, হর্ণ কনে ঢুকে না?”।
আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের
সুন্দরী ছাত্রীকে শিক্ষকের বেশি নম্বর দেওয়ার প্রলোভন:
“Need extra
care. Come in the evening. ‘ll get better marks.”
আমার কবিতায় চিরাচরিত
রুপক-উপমা নেই।
আছে কংস-স্বামী,
দুম্বা হাসান, মূরগী মিলন বা পিচ্ছি হান্নান;
যারা ‘কুকুর হয়ে
ঘোরে মানুষের পিছে পিছে
তাদের ভিতরের
কুকুরটাকে দেখানোর জন্য'।
আছে আগুন নেতা।
বাতশে অগ্নিদগ্ধ শরীরের পোড়া গন্ধ
যার প্রিয় সুগন্ধি।
আছে কাক শিল্পি
যারা বসন্তের
মধুর সংগীতকে বানায় মেঘের গর্জন।
আছে,মজিদ কবি
যারা বিশ্বাস করে না
"জ্বিহব্বায়
উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা"।
বিশ্বাস করে জ্বিহব্বায়
উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ সত্য, কবিতা।
0 comments:
Post a Comment